শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে এক মাসে আমানতের তুলনায় ৯ গুণ বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের মতে,
মার্চ মাসে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৮০ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে, মার্চ মাসে ঋণ বা বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা।
এক মাসে যতটা আমানত সংগ্রহ করেছে, তার চেয়ে সাড়ে ৯ গুণ বেশি ঋণ বিতরণ করেছে দেশের পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো। এর ফলে, কিছু ব্যাংকে তারল্যসংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১০টি পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহভিত্তিক বা ইসলামি ধারার ব্যাংক রয়েছে। এসব ব্যাংক হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চে এসব ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ৪৪৯ কোটি টাকা, যার বিপরীতে ঋণ বা বিনিয়োগ বেড়েছে ৪ হাজার ৩০২ কোটি টাকা। গত ফেব্রুয়ারিতে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোয় আমানত ছিল ৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৬ কোটি টাকা, যা মার্চে বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারিতে এ ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা, যা মার্চে বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, তারল্যসংকটে পড়া কিছু ইসলামি ধারার ব্যাংক আমানতের পাশাপাশি মূলধন, নিরাপত্তা সঞ্চিতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধার নেওয়া অর্থ বিনিয়োগ করছে। এর ফলে, আমানতের তুলনায় ঋণের প্রবৃদ্ধি বেশি হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ইসলামি শাখা ও উইন্ডোগুলোর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, গত মার্চে আমানত কমেছে ৪৪৯ কোটি টাকা এবং একই মাসে এসব শাখা ও উইন্ডোর বিতরণ করা ঋণ বা বিনিয়োগ কমেছে ৮৪ কোটি টাকা।
c
cc
ফেব্রুয়ারি শেষে ইসলামি ধারার ব্যাংক এবং প্রচলিত ধারার ব্যাংকের ইসলামি শাখা ও উইন্ডো মিলিয়ে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ১৮ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা, যা মার্চে বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ১৯ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ঋণ বা বিনিয়োগ ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯০১ কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা।
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, তাদের ব্যাংকে কোনো ধরনের তারল্যসংকট নেই এবং তাদের কাছে দুই হাজার কোটি টাকার আমানত উদ্বৃত্ত রয়েছে। এছাড়াও, তাদের কাছে ৩০ কোটি ডলারও মজুত আছে। আমদানি প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশ এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সংকটে পড়া কিছু ইসলামি ধারার ব্যাংক অনেক দিন ধরেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত নগদ জমার হার (সিআরআর) এবং বিধিবদ্ধ জমার হার (এসএলআর) সংরক্ষণ করতে পারছে না। এসএলআরের জন্য এ ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা ট্রেজারি বিল ও বন্ড বন্ধক রেখে ধার করা টাকা খরচ করে ফেলেছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব থেকেও প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ২৩ দশমিক ৬১ শতাংশ ছিল ইসলামি ব্যাংকগুলোয়, যা মার্চে কমে হয়েছে ২৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংক খাতের ঋণের ২৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ ছিল ইসলামি ব্যাংকগুলোয়, যা মার্চে কমে হয়েছে ২৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
c
cc
মার্চে ইসলামি ব্যাংকগুলোর শাখার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৬৭৪টি। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের ৩৯৪টি, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ২১৯টি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ২০৫টি, এসআইবিএলের ১৭৯টি, এক্সিম ব্যাংকের ১৫১টি, শাহ্জালাল ব্যাংকের ১৪০টি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ১৩৮টি, ইউনিয়ন ব্যাংকের ১১৪টি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ১০১টি এবং আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৩৩টি শাখা রয়েছে।

0 Comments