এস আলম এখনও ব্যাংক থেকে শত কোটি টাকার বেশি উত্তোলন করছে।


 এস আলম গ্রুপ নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলোতে ঋণ বিতরণের ওপর বিধিনিষেধ সত্ত্বেও কৌশলে অর্থ উত্তোলন করছে। নিয়ন্ত্রণ হারানোর শেষ সময়ে এক কোটি বা তার কম অঙ্কের পে-অর্ডার ব্যবহার করে তারা অর্থ সরিয়ে নিচ্ছে। 


শুধু সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) খাতুনগঞ্জ শাখায়, একটি প্রতিষ্ঠানের নামে গতকাল বুধবার ১৬টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে ১৫ কোটি ১ লাখ টাকা উত্তোলন করেছে এস আলম গ্রুপ, যেখানে এই শাখায় ১,১১৩ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে।


সোমবার, এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের জামাতা পরিচালিত ইউনিটেক্স এলপি গ্যাসের নামে অগ্রণী ব্যাংক থেকে ৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। এভাবে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা উত্তোলন চলছে, যা ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় সম্পন্ন হচ্ছে, এমনকি যখন অনেক আমানতকারী তাদের অর্থ ফিরে পেতে কষ্ট করছেন।

fff

জানা গেছে, এস আলম গ্রুপ নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে এবং এর একটি বড় অংশ পাচার করেছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে অন্তত ৭৫ হাজার কোটি টাকা, এসআইবিএল থেকে ১৫ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা এবং জনতা ব্যাংক থেকে ১৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক থেকেও বিশাল অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয়েছে। 


ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় নন-ফান্ডেড দায়কে ফান্ডেড ঋণে পরিণত করে অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে। এসআইবিএলের খাতুনগঞ্জ শাখায় এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের নামে ১,১১৩ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে, যার মধ্যে ৩৭৫ কোটি টাকা ফান্ডেড এবং বাকি ৭৩৮ কোটি টাকা নন-ফান্ডেড। গতকাল, ১৬টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে দুটি এলসির বিপরীতে ১৫ কোটি ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৬৪ টাকা উত্তোলন করা হয়। 

ff f

ব্যাংকটির চলতি হিসাবে ঘাটতি থাকায় অন্যান্য ব্যাংকের মাধ্যমে চেক নগদায়ন করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার কারণে এক কোটি টাকার বেশি চেক গ্রহণ না করায়, ছোট ছোট পে-অর্ডার ব্যবহার করে এই অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে।


এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের জামাতা বেলাল আহমেদ এসআইবিএলের চেয়ারম্যান। তাঁর মালিকানাধীন ইউনিটেক্স এলপি গ্যাসের নামে ৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয় ১৯ আগস্ট। প্রতিদিনই এই গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করছে।


এসআইবিএলের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় শেষ সময়ে এভাবে অর্থ উত্তোলন করছে। ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাদের নিজস্ব লোক হওয়ায় বেশিরভাগ অধস্তন কর্মকর্তা এসব সম্পর্কে অবগত নন। পরিস্থিতি সামলাতে দ্রুত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।


এছাড়াও, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্যান্য ব্যাংকগুলো থেকেও একই ধরনের কৌশলে অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ছাড়া অন্যান্য ব্যাংকের কর্মীরা এখনও এস আলম গ্রুপের নির্দেশনা মেনে চলছেন। তবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ৬ ডিএমডিসহ ৮ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে, যা গ্রুপটির অর্থ উত্তোলনে বাধা সৃষ্টি করছে।

fff

সরকার পরিবর্তনের পর এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আত্মগোপন করেছেন। ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে বিধিনিষেধ আরোপ করে, তবে গ্রুপটি তবুও বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করে যাচ্ছে।