"বাংলাদেশ ব্যাংক এখন থেকে এস আলম গ্রুপকে পূর্বের মতো সমর্থন দেবে না।"

 "বাংলাদেশ ব্যাংক এখন থেকে এস আলম গ্রুপকে পূর্বের মতো সমর্থন দেবে না।"


ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ আবারও জামায়াতে ইসলামী নিয়ন্ত্রণে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জামায়াত ও ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনও পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ডেপুটি গভর্নর জানিয়েছেন, সরকার পরিবর্তনের পর এস আলম গ্রুপের প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনোভাব বদলেছে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক এখন থেকে এস আলম গ্রুপকে পূর্বের মতো সমর্থন দেবে না। বরং, এস আলমের মাধ্যমে পাচার করা অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক সোচ্চার থাকবে।”


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক এখন এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, যাতে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ইসলামী ব্যাংক দিয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা যদি আগের কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরে যায়, তাতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমর্থন রয়েছে।”

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংক খোলার প্রথম দিনেই ইসলামী ব্যাংকে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্নার ভাঙচুর করেছেন কিছু বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা। তারা মানবসম্পদ বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও মারধর করেছেন। এ ঘটনার পর ব্যাংকের সিবিএ নেতা আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, “২০১৭ সালের পরে আসা সকল নির্বাহী কর্মকর্তারা আর ব্যাংকে ঢুকতে পারবেন না। বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের শান্ত হতে বলেছেন। ইসলামী ব্যাংক পুনরায় ফিরে আসবে।”


আনিসুর রহমান আরও বলেছেন, “২০১৭ সালের পর পরীক্ষা ছাড়া যে নিয়োগগুলো হয়েছে, সেগুলি বাতিল করা হবে। একইসঙ্গে, ওই সময়ের পর যারা অবৈধভাবে চাকরি হারিয়েছেন, তাদের পুনরায় চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হবে। গত সাত বছরে পদোন্নতি বঞ্চিতদের যথাযথ পদোন্নতি দেওয়া হবে।”


এদিকে, জামায়াতে ইসলামী একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং ব্যাংকটিকে আগের অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন। মনিরুল মাওলা এতে সম্মতি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।


ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ব্যাংকটির মালিকানা পরিবর্তনের পর অনেক কর্মকর্তাকে জোরপূর্বক চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। জুনিয়র কর্মকর্তাদের সিনিয়র পদে পদোন্নতি করা হয়েছে এবং বড় অঙ্কের অর্থের পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

fff

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর মঙ্গলবার সকালে কিছু কর্মকর্তা ব্যাংকে এসে বঙ্গবন্ধু কর্নার ভাঙচুর করেছেন এবং মালিকপক্ষের নির্দেশে সাবেক কিছু কর্মীকে বাধ্য করার অভিযোগ তুলেছেন। তারা মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের মারধর করেছেন এবং ব্যাংক এলাকায় বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছেন।


বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন ইসলামী ব্যাংকের অপারেশন বিভাগের প্রধান কামালউদ্দিন জসিম, যিনি জানিয়েছেন, ব্যাংকে অনিয়মের মাধ্যমে যেসব নিয়োগ হয়েছে, তা বাতিলের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। বর্তমানে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং এস আলম ও জামায়াত সমর্থিত দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছে।


ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জামায়াতে ইসলামী নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং তাদের নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হতো। ব্যাংকটি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ইসলামী ব্যাংক হিসেবে পরিচিত।


Post a Comment

0 Comments