শেখ হাসিনা কি পশ্চিমা দেশগুলোতে রাজনৈতিক আশ্রয় পাবেন?
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের গবেষক টম কিন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া শেখ হাসিনার জন্য অত্যন্ত ‘কঠিন’ হতে পারে, এমনকি এটি সম্ভবও নাও হতে পারে।
সম্প্রতি খবর বেরিয়েছে যে শেখ হাসিনা শেষ মুহূর্তে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে আরো বেশি বল প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, শেখ হাসিনার পশ্চিমা দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে। বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতি এবং গত কয়েক দিনের ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে পশ্চিমা দেশগুলো অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছে।
কুগেলম্যান বিবিসি বাংলাকে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে যে প্রবল শক্তি প্রয়োগ করেছে এবং শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো আপত্তি জানিয়েছে।
তিনি জানান, “এটি শেখ হাসিনার জন্য চিন্তার বিষয় হবে, কারণ তার পরিবারের অনেক সদস্য পশ্চিমা দেশগুলোতে বসবাস করে। কিছু দেশ, যেগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়, হয়তো তাকে আশ্রয় দিতে পারে, তবে সম্ভবত তা পশ্চিমা দেশগুলোর বাইরে অথবা গাল্ফ অঞ্চলের কোনো দেশ হতে পারে।”
ছাত্র বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর শক্তি প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবাদ সত্ত্বেও শেখ হাসিনা সরকার শক্তি প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে।
টম কিন উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যদি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনা তদন্ত করে এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। সেক্ষেত্রে, তিনি মনে করেন, ব্রিটেনে থেকেও শেখ হাসিনা নিরাপদে থাকতে পারবেন না।
ইতিহাসে দেখা গেছে, পতিত স্বৈরাচারদের ইউরোপ বা আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, তবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ক্ষমতাচ্যুত একনায়কদের সৌদি আরব আশ্রয় দিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী যুগের নয় এবং ভিডিও-ছবির মাধ্যমে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই কারণে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জনমত এবং নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রচুর বেড়ে গেছে।
টম কিন বলেন, “প্রচার মাধ্যমের মাধ্যমে যা ঘটছে তা সবাই দেখছে, এবং এটি পশ্চিমা দেশগুলোর মনোভাব প্রভাবিত করছে। ইউরোপ এবং আমেরিকা তাদের মিত্রদের আশ্রয় দিয়েছে, কিন্তু শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। অনেক বাংলাদেশি ইউরোপ ও আমেরিকায় বসবাস করেন এবং তাদের মধ্যে অনেকেই শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন, যা পশ্চিমা সরকারগুলোর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।”
0 Comments