"ইসলামী ব্যাংক বেনামি ঋণ আটকে দিয়েছে"
সরকার পরিবর্তনের পর বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বেনামি ঋণের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের প্রবণতা ঠেকানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার একদিনে ব্যাংকটি ৮৮৯ কোটি টাকা উত্তোলন রোধ করেছে, যা দুটি প্রতিষ্ঠান—গ্লোডেন স্টার এবং টপ টেন ট্রেডিং হাউসের মাধ্যমে উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়েছিল। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুই প্রতিষ্ঠানই ব্যাংকের মালিকপক্ষের সঙ্গে যুক্ত, এবং সরকার পরিবর্তনের পরই এই ধরনের অর্থ উত্তোলন ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ব্যাংকটির অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সালে মালিকানা পরিবর্তনের পর বাদ পড়া কর্মকর্তারা বুধবারও বিক্ষোভ করেছেন। তাঁরা মালিকপক্ষের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের পদত্যাগ এবং গত সাত বছরে যোগ দেওয়া কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীরা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ কায়সার আলীকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেন, এবং তিনি পরবর্তীতে ব্যাংক ছেড়ে যান।
২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির মালিকানা গ্রহণের পর মুহাম্মদ কায়সার আলী চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন এবং দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত এমডি হন। এতে ব্যাংকটির অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ।
সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা সাধারণত উপস্থিত হচ্ছেন না, এবং বেশিরভাগই এস আলম গ্রুপের মদদপুষ্ট। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যাংকের ডিএমডি আকিজ উদ্দিন, মিফতাহ উদ্দিন এবং কাজী মো রেজাউল করিমের নামফলক ভাঙচুর করেছেন।
এদিকে, ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে স্বেচ্ছায়, জোরপূর্বক বা বাধ্যতামূলকভাবে পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের পদত্যাগপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাদের দ্রুত ব্যাংকে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
fff
মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখায় সোনালী, জনতা, রূপালী, পূবালী এবং সিটি ব্যাংকের পাঁচটি চেক নগদায়নের জন্য পাঠানো হয়েছিল। গ্লোডেন স্টার নামক একটি প্রতিষ্ঠান এই চেকগুলি ইস্যু করেছিল। প্রাথমিক অনুমোদনের পর এগুলো ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়, যা ৩৪৬ কোটি টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করে। তবে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তৎপরতায় তা আটকে যায়। একই দিনে টপ টেন ট্রেডিংয়ের ৫৪৮ কোটি টাকার বেনামি ঋণও আটকে দেওয়া হয়।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা মন্তব্যের জন্য সাড়া না দিলে, ব্যাংকটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বেনামি ঋণ নিয়ে ব্যাংককে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে এবং টাকা তুলে ডলার করে বাইরে পাঠানো হচ্ছে। সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ব্যাংকটি বিপর্যস্ত হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, নতুন ঋণ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর চলতি হিসাব ঋণাত্মক থাকলেও লেনদেন কিভাবে চলছে তা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, সবকিছু এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে।

0 Comments