স্বৈরশাসকরা কোথায় চলে যান?
স্বৈরশাসকরা যখন তাদের ক্ষমতা হারান, তখন তাদের জন্য এটি বেশ বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ক্ষমতার পতন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে তাদের জন্য শাস্তি, কারাদণ্ড কিংবা জীবনসংকটের ঝুঁকি তৈরি হয়। এই কারণে অনেক স্বৈরশাসক দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, যাতে জনরোষ থেকে বাঁচতে পারে।
বিপ্লব, গণঅভ্যুত্থান, সামরিক অভ্যুত্থান এবং গৃহযুদ্ধের সময় যখন ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকি থাকে, তখন তারা বিদেশে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজেন।
বিপ্লব, গণঅভ্যুত্থান, সামরিক অভ্যুত্থান এবং গৃহযুদ্ধের সময় যখন ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকি থাকে, তখন তারা বিদেশে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজেন।
স্পেনের বার্সেলোনা ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবদেল এসক্রেবা ফোলক এবং যুক্তরাষ্ট্রের নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডানিয়েল ক্রামারিক স্বৈরশাসকদের গন্তব্য নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে স্বৈরশাসকদের দেশ ছেড়ে পালানো তাদের প্রিয় বিকল্পগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যত স্বৈরশাসক ক্ষমতা হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে ২০ শতাংশ নির্বাসনে গিয়েছিলেন।
যেমন, ১৯৭৯ সালে উগান্ডার বিদ্রোহী এবং তানজানিয়ার সৈন্যরা যখন উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, উগান্ডার স্বৈরশাসক ইদি আমিন লিবিয়াতে পালিয়ে যান এবং পরবর্তীতে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন।
১৯৮৬ সালে ফিলিপিন্সের স্বৈরশাসক ফার্ডিনান্ড মার্কোস গণবিক্ষোভের মুখে আমেরিকার সহায়তায় হাওয়াই চলে যান। একই সময়ে হাইতির স্বৈরশাসক জ্যঁ-ক্লদ ডুভেলি গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্রান্সে আশ্রয় নেন।
আরব বসন্তের পর তিউনিসিয়ার স্বৈরশাসক বেন আলী ২৩ বছর ক্ষমতায় থাকার পর জনবিক্ষোভের মুখে সৌদি আরবে পালিয়ে যান এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
মিশরের প্রেসিডেন্ট হুসনি মুবারক ১৮ দিনের বিক্ষোভের পর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এবং সেনাবাহিনীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ক্ষমতা ছাড়ার পর তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়, যা পরে বাতিল করে পুনরায় বিচার করা হয়। ২০১৭ সালে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং মুক্তি পান।
লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফির পরিণতি ছিল আরো ভয়াবহ। আরব বসন্তের প্রেক্ষাপটে গাদ্দাফি ক্ষমতার জন্য অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেন এবং লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। গাদ্দাফি ক্ষমতা হারানোর পর পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু বিদ্রোহীদের হাতে ধরা পড়ে তাকে হত্যা করা হয়।
ইরানের মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ইসলামী বিপ্লবের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে মিশরে নির্বাসিত হন। তার বিরুদ্ধে জন-বিক্ষোভ প্রবল হলে পশ্চিমা মিত্ররা তাকে পরিত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ সেনাবাহিনীর সাথে দ্বন্দ্বের কারণে ক্ষমতাচ্যুত হন। মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সৌদি বাদশার চাপে তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।

0 Comments