ইসলামী ব্যাংকে বিক্ষোভ চলছে, অতিরিক্ত এমডি পদত্যাগ করেছেন।

ইসলামী ব্যাংকে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সালে ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের পর বাদ পড়া ও বঞ্চিত কর্মকর্তারা আজ বুধবারও বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভ চলাকালে তাঁরা ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ কায়সার আলীকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেন। পরে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে, সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ত্যাগ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর ইসলামী ব্যাংকে অস্থিরতা শুরু হয়। গতকাল মঙ্গলবার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা মালিকপক্ষের বিশেষ সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের পদত্যাগের পাশাপাশি গত সাত বছরে যোগ দেওয়া কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



জানা যায়, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির কর্তৃত্ব নেওয়ার পর মুহাম্মদ কায়সার আলী চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন। এস আলম গ্রুপও ওই শাখার গ্রাহক। অল্প সময়ের মধ্যে তাঁকে একাধিক পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত এমডি করা হয়, যা ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তাদের ক্ষোভের কারণ হয়। চাপে পড়ে তিনি পদত্যাগ করে ব্যাংক ছাড়েন।

ইসলামী ব্যাংকের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকের কার্যালয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়া অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত হননি। বেশিরভাগ শীর্ষ কর্মকর্তা এস আলম গ্রুপের সমর্থনপুষ্ট বলে পরিচিত। ইতিমধ্যে ব্যাংকের ডিএমডি ও এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের ব্যক্তিগত সহকারী আকিজ উদ্দিন, ডিএমডি মিফতাহ উদ্দিন ও কাজী মো. রেজাউল করিমের নামফলক ভাঙচুর করেছেন কিছু বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা।

এদিকে ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন গতকাল থেকে স্বেচ্ছায়, জোরপূর্বক ও বাধ্যতামূলকভাবে পদত্যাগ করা কর্মকর্তাদের পুনরায় কাজে যোগদান করতে বলেছে। ফাউন্ডেশনের এক সিদ্ধান্তে এসব কর্মকর্তার পদত্যাগপত্র বাতিল করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ট্রেনিং সেন্টারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের।

s ss


বিক্ষোভ চলাকালে সিবিএ নেতা আনিসুর রহমান ঘোষণা করেন, ২০১৭ সালের পর যারা নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তারা ব্যাংকে প্রবেশ করতে পারবেন না। তিনি বলেন, “আপনারা শান্ত হোন। ব্যাংকটি পুনরুদ্ধার হবে।” আনিসুর রহমান আরও জানান, ২০১৭ সালের পর পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিল হবে এবং ওই সময় চাকরি হারানোদের পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া, পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের যথাযথ পদোন্নতি দেওয়া হবে।

ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, ২০১৭ সালে ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের পর অনেক কর্মকর্তাকে জোরপূর্বক চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে এবং অনেক জুনিয়র কর্মকর্তাকে সিনিয়র পদে বসানো হয়েছে। ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের অর্থ সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।