নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পুলিশ; থানা এখনও চালু হয়নি।
পুলিশ সদস্যদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হলেও দেশের থানাগুলো এখনো চালু হয়নি। নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ বেড়ে গেছে, যার ফলে তাঁরা থানায় যোগ দিতে সাহস পাচ্ছেন না।
পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তাবোধ ফিরে না আসা পর্যন্ত তাঁদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য এলাকার থানাগুলো শিগগিরই পুরোদমে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার মো. মাইনুল হাসান পুলিশ সদস্যদের দ্রুত থানায় ফিরে এসে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্তত চেয়ার–টেবিল স্থাপন করে দ্রুত জনগণকে সেবা দেওয়ারও তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক সমন্বয় সভায় এ নির্দেশ দেন কমিশনার। সভায় ঢাকার থানাগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ও ডিএমপি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিভিন্ন কর্মকর্তারা জানান, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণে ঢাকা শহরের থানাগুলোর অবস্থা এতটাই খারাপ যে, কার্যক্রম শুরু করতে সময় লাগবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সংঘর্ষের জেরে ঢাকাসহ সারা দেশে বেশ কিছু থানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে। বিশেষ করে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশ সদর দপ্তরসহ বেশ কিছু থানায় হামলা, ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অস্ত্র ও মালামাল লুটের ঘটনাও ঘটেছে। অনেক পুলিশ সদস্য হতাহত হয়েছেন এবং থানাগুলো পুলিশশূন্য হয়ে পড়েছে।
fff
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে পুলিশ লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর পুলিশ সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করার পর পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির অফিসে কর্মকর্তারা আসতে শুরু করেছেন।
নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম গত বুধবার সব পুলিশ সদস্যকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। গতকাল ২৪ ঘণ্টা পার হলেও ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ থানায় পুলিশ সদস্যদের দেখা যায়নি। থানাগুলো বর্তমানে আনসার সদস্যদের দ্বারা পাহারা দেওয়া হচ্ছে।

0 Comments