হজ পালন করতে গিয়ে কেউ মারা গেলে তার কাফন-দাফনের কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়?
চলতি বছরের হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত ২১ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মৃতদের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ এবং তিন জন নারী রয়েছেন, যাদের বয়স ৪৮ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে। বাংলাদেশের হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
বুলেটিন অনুযায়ী, মক্কায় ১৬ জন, মদিনায় ৪ জন এবং মিনায় ১ জন হজযাত্রী মারা গেছেন। হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে ১৭ জন এবং পরে ৪ জন মারা যান।
মক্কায় হজ করতে গিয়ে বাংলাদেশিসহ ৫৭০ জনেরও বেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, যাদের অর্ধেকেরও বেশি মিশরীয় নাগরিক।
প্রখর তাপপ্রবাহ ও অসহনীয় গরমের কারণে বিভিন্ন অসুস্থতার জেরে ওই হজযাত্রীরা মারা গেছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। তারা বলছে, ছায়ার মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় ৫১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রতিবছর হজ করতে গিয়ে তীব্র গরম, ভিড়ে পদদলিত হওয়া, অসুস্থতা বা সড়ক দুর্ঘটনার মতো নানা কারণে হজযাত্রীরা সৌদি আরবে মারা যান। এক্ষেত্রে পরবর্তী করণীয় কী?
মরদেহ দেশে আনা যাবে, নাকি সেখানেই দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা হবে? লাশ সনাক্ত হবে কিভাবে? মৃত্যু সনদ কারা প্রদান করবে? এমন নানা প্রশ্ন উঠে আসে।
এক্ষেত্রে সৌদি আরবের হজ সংক্রান্ত আইনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি হজ করতে গিয়ে মারা গেলে তার লাশ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয় না। তার মরদেহ সৌদি আরবেই দাফন করা হয়।
d
dd
হজে যাওয়ার প্রস্তুতির সময়ে প্রত্যেক হজযাত্রী হজে যাওয়া সংক্রান্ত আবেদনপত্র পূরণ ও স্বাক্ষর করেন। ওই আবেদনপত্রে তারা অঙ্গীকার করেন বা সম্মতি দেন, যদি সৌদি আরবের ভূমি বা আকাশে তাদের মৃত্যু হয় তবে সৌদি আরবে তাকে দাফন করা হবে। পরিবারের কোনো আপত্তি গ্রহণ করা হবে না।
এক কথায়, মৃতের পরিবার হজযাত্রীর মরদেহ দেশে পাঠানোর বা এই সংক্রান্ত কোনো সুপারিশ সৌদি সরকারকে করতে পারবেন না। আর করলেও তা সৌদি সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
সৌদি আরবে হজ করতে যাওয়া বাংলাদেশি হজযাত্রী তার থাকার জায়গায়, রাস্তায় দুর্ঘটনায়, বা হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করলে সেই সংবাদ সবার আগে সৌদিতে বাংলাদেশের হজ মিশনকে জানাতে হয়। এই তথ্য জানিয়ে থাকেন মোনাজ্জেম বা মোয়াল্লেমরা। মোনাজ্জেম হলেন হজ এজেন্সির পক্ষে দায়িত্বে থাকা গাইড, আর মোয়াল্লেম হলেন সৌদি আরবের গাইড, যার অধীনে একাধিক এজেন্সি থাকে।
d
dd
অনেক সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সাধারণ মানুষও সরাসরি হজ মিশনকে এই তথ্য জানিয়ে থাকেন। এটি নির্ভর করে ওই হজযাত্রী কোথায় মৃত্যুবরণ করেছে তার ওপর।
হজ পালনের সময় কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও হাসপাতালে পাঠানোর জন্য বিভিন্ন টিম কাজ করে। সাধারণত হজযাত্রীর সাথে থাকা হাতের ব্যান্ড বা গলায় ঝোলানো আইডি থেকে তার নাম, বয়স, এজেন্সি, জাতীয়তা, সনাক্তকারী নম্বরসহ প্রাথমিক কিছু তথ্য পাওয়া যায়।
বাংলাদেশের একটি নিবন্ধিত হজ এজেন্সির মোনাজ্জেম নাজমুস সাদাত এসব তথ্য জানিয়েছেন। এরপর হজ মিশন মৃতের ছবি ও প্রাথমিক তথ্যের সাথে তাদের কাছে থাকা তথ্য ও ছবি মিলিয়ে মৃতের পরিচয় নিশ্চিত করে। যদি মৃত হজযাত্রীর সাথে তার কোনো আত্মীয়স্বজন বা কাছের কেউ থাকেন, তারা মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেন।
এরপর বিষয়টি মৃতের বাংলাদেশে থাকা পরিবার এবং সৌদি আরবের হজ সম্পর্কিত মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে হজ মিশন। সেইসাথে মৃতের এই তথ্য ওয়েবসাইটে আপডেট করা হয়। মৃতের পরিবার যদি সৌদি আরবে এসে শেষবারের মতো তাদের স্বজনকে দেখতে চান, সেই সুযোগ থাকে না। তবে স্বজন যদি মক্কায় থাকেন, তাহলে তিনি লাশ দেখার এবং জানাজায় অংশ নেয়ার সুযোগ পান।
dd
d
বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ধর্ম তত্ত্ববিদ ড. ওলিউর রহমান খান জানিয়েছেন, মৃতের পরিচয় সনাক্ত না হলে তা পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য টানা ১৫ দিন লাশটি তাদের হিমঘরে রাখা হয়। পরিচয় সনাক্ত হওয়ার পর নিকটস্থ হাসপাতাল অথবা বাংলাদেশ হজ কার্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে সার্টিফাইড চিকিৎসকের সনদ বা ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হয়। মোয়াল্লেম অফিসও ছাড়পত্র দিয়ে থাকে।

0 Comments